Syed Rakib Ahmed

Syed Rakib Ahmed

Syed Rakib Ahmed

, বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং। চারটি ইউনিয়ন ধারায় গঠিত,প্রায় ৩৬ টি ওয়ার্ড নিয়ে বানিয়াচংগ্রাম। এই গ্রামের প্রাচীন ইতিহাসে, রাজবাড়ীর একটি ক্ষমতা ও শাসন ব্যবস্থা, খুব সুরক্ষভাবে হয়েছিল। Syed Rakib Ahmed

বানিয়াচং গ্রামের ইতিহাস ,ঐতিহাসিক পর্যটক কেন্দ্র, লক্ষিবাহর জঙ্গল, কমলা রাণীর সাগর দীঘী এবংজ্বীনের দারাগুট্টি ।

বানিয়াচং: বিশ্বের-বৃহত্তম-গ্রামের-ইতিহাস

​Syed Rakib Ahmed

বানিয়াচং গ্রামের ইতিহাস ,বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরবেষ্টিত জেলা হবিগঞ্জের একটি উপজেলা বানিয়াচং। আয়তন আর জনসংখ্যার বিচারে এটি কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে স্বীকৃত। শত শত বছরের পুরনো এই জনপদটি বীরত্ব, আভিজাত্য এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির এক অনন্য দলিল।

বানিয়াচং-গ্রামের-ইতিহাস ভৌগোলিক পরিচয় ও গঠন

​বানিয়াচং গ্রামটি প্রায় ৩২ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ভৌগোলিক বিচারে এটি ১২০টি মহল্লায় বিভক্ত এবং এর জনসংখ্যা প্রায় কয়েক লক্ষ। গ্রামটির গঠনশৈলী মধ্যযুগীয় নগর পরিকল্পনার আদলে তৈরি। চারদিকে হাওর এবং মাঝখানে উচু ভিটায় গড়ে ওঠা এই গ্রামটি বর্ষাকালে অনেকটা দ্বীপের মতো দেখায়, যা এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।Syed Rakib Ahmed

উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা

  • বানিয়াচং-এর প্রতিটি কোণায় ইতিহাসের সাক্ষী ছড়িয়ে আছে:
  • ​বিবির দরগা: এটি বানিয়াচং-এর প্রাচীনতম ও কারুকার্যখচিত একটি স্থাপত্য।
  • ​কমলারানীর দিঘি (সাগর দিঘি): প্রায় ৬৬ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই দিঘিটি বানিয়াচং-এর প্রাণ। জনশ্রুতি আছে, প্রজাদের পানির কষ্ট দূর করতে রাজা পদ্মনাভ এই দিঘি খনন করেছিলেন এবং তার স্ত্রী রানী কমলা আত্মবিসর্জন দিয়েছিলেন।
  • ​রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ: প্রাচীন রাজপ্রাসাদের চিহ্নগুলো আজও এই অঞ্চলের আভিজাত্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বানিয়াচংগ্রামের ইতিহাসে, লক্ষীবাউর জঙ্গল, টি সিলেটের দ্বিতীয় জলবন জঙ্গল হিসেবে ধারণা করা হয়। বর্ষাকালে সেই জঙ্গলটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। এবং শরৎকালে অপূর্ব সৌন্দর্য প্রকৃতির সাথে দেখা দেয়।

লক্ষীবাউর-জঙ্গল

লক্ষী বাহুর জঙ্গলটির, পূর্বকালের মালিকানা কে, তার কোন নিশ্চিত ইতিহাস নেই। তবে ব্রিটিশ আমলের, শাসনের শেষকালে ১৯ দশকে সেটি এলাকাভিত্তিক মালিকানা হয়। শোনা যায় এক রাজ পরিবারের কাছ থেকে সেটি কেনা হয়। এটি একটি, সোয়াম্প ফোরেস্ট হাউস। এটি প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ একর জমি নিয়ে বিস্তীর্ণ। এটি মূলত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাবন হিসেবে পরিচিত, যা অনেকটা সিলেটের রাতারগুলের ছোট সংস্করণের মতো। একটি অনন্য প্রাকৃতিক স্থান। এখানে প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রাণী বসবাস করে। যেমন মেছো বাগ, শেয়াল, বিভিন্ন ধরণের সাপ, পাখি, বক, অতিথি পাখি ও পাওয়া যায়। বানিয়াচংয়ের মতো বিশাল হাওর বেষ্টিত এলাকায় এমন একটি প্রাকৃতিক বন সত্যিই বিরল। বিশেষ করে বিকেলের নরম আলোয় যখন হিজল তলার ঠান্ডা বাতাস বয়, তখন সেখানে বসে থাকা যে কারো কাছেই স্মরণীয় হয়ে থাকে।

বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যাওয়ায় নৌকা দিয়ে সেখানে যেতে হয়। এবং অনেক পরিমানের মাছ চাষ করা হয়।স্থানীয়, এলাকার বিভিন্ন মানুষ মাছ ধরতে ছুটে যায়। বর্ষাকালেও জঙ্গলটি অনেক সুন্দর রুপে দেখা দেয়। এবং শুষ্ক মৌসুমে গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করা যায়। লোক কথায় শোনা যায়, পূর্বকালে সেখানে নাকি বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ছিল। মানুষ সেখানে যেতে ভয় পেত।এবং বাঘের ও সাপের কামড়ে অনেক মানুষ শিকার হয়েছে।

বিভিন্ন ঋতুতে, লক্ষ্মীবার জঙ্গল টি খুব সুন্দর হয়। সবুজ, শ্যামল ও পাখির কিচির মিচির। ঠান্ডা হাওয়া তে কি মধুর পরিবেশ।

​শীতের পাখির মেলা: শীতকালে যখন পানি কিছুটা কমে আসে, তখন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথি পাখিদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বনের ভেতর তাদের কিচিরমিচির শব্দ আর ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ এক জীবন্ত পরিবেশ তৈরি করে।
​সবুজ ও স্নিগ্ধতা: শরতের নীল আকাশ আর বনের গাঢ় সবুজের মিশেল কিংবা বসন্তের নতুন পাতার সমারোহ—সব মিলিয়ে এখানে সবসময়ই একটা ‘মধুর’ আমেজ থাকে।

কমলা রাণীর সাগর দীঘী

বানিয়াচং গ্রামের ইতিহাস, কমলা রানীর সাগরদিঘী নিয়ে অনেক লোক কোথা ও কৌতুহল রয়েছে।

বিখ্যাত এই দিঘিটি দ্বাদশ শতাব্দীর দিকে খনন করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তখন এই অঞ্চলের শাসক ছিলেন রাজা পদ্মনাভ। জনশ্রুতি আছে, সেই সময় রাজ্যে ভয়াবহ পানির অভাব দেখা দেয়। মাঠের ফসল শুকিয়ে যাচ্ছিল এবং মানুষ ও গবাদিপশু তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছিল। প্রজাদের এই চরম দুঃখ দূর করার জন্য রাজা ৬৬ একর জমির ওপর এক বিশাল দিঘি খননের সিদ্ধান্ত নেন

পানির জন্য হাহাকার ও অলৌকিক স্বপ্ন

​বিশাল এই দিঘি খনন করা হলেও একটি অদ্ভুত সমস্যা দেখা দিল। দিঘির তলদেশ থেকে এক ফোঁটা পানিও উঠল না। মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে অনেক গভীর করা হলো, তবুও পানির দেখা নেই। রাজা চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা শুরু করলেন।
​কথিত আছে, সেই রাতে রাজা স্বপ্নে এক দৈববাণী শুনতে পান। স্বপ্নে বলা হয়, যদি রাজরানী কমলাবতী (যিনি প্রজাদের কাছে খুবই প্রিয় ছিলেন) দিঘির মাঝখানে গিয়ে পূজা দেন বা এক পা রাখেন, তবেই দিঘি পানিতে পূর্ণ হবে।

প্রজাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে রানী কমলাবতী হাসিমুখে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে রাজি হলেন। নির্দিষ্ট দিনে রানী রাজকীয় পোশাকে সজ্জিত হয়ে দিঘির মাঝখানে যান। অলৌকিকভাবে দেখা গেল, রানীর পা ছোঁয়ার সাথে সাথেই দিঘির তলদেশ থেকে হু হু করে পানি উঠতে শুরু করল।
​প্রজারা আনন্দে চিৎকার করে উঠলেও সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পানি এত দ্রুত বাড়তে শুরু করল যে রানী তীরে ফিরে আসার আগেই চারদিক তলিয়ে যেতে থাকে। জনশ্রুতি আছে, রানী কমলাবতী পানির নিচে তলিয়ে যান এবং প্রজাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দেন। এই করুণ কাহিনী থেকেই দিঘিটির নাম হয় ‘কমলারানীর দিঘি’।

লোক কোথায় কৌতুহল শোনা যায়। রানী কমলাবতি নাকি প্রতি রাতে তার সন্তান কে ধুদ পান করার জন্য আসতেন। একদিন রাজা নাকি তাকে আটকানোর জন্য চেষ্টা করেন এবং তার চুল ধরে টান দেন। একটি চুল ছেড়ে আটকে যায় সেটি নাকি অনেক লম্বা ছিলো।

মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান

বানিয়াচং-গ্রামের-ইতিহাস প্রথমবারের মতো তিনি দীঘী খনন করা, ও পানি সেচানোর সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘদিন পানি সেচানোর কাজ চললে। দিঘির মাঝখানের পানি সেচানো হয়নি। কাজ বন্ধ করা হয়। এবং এক রাতে নাকি অলৌকিক জিনিস। কিছু একটা দিঘির, দক্ষিণ পাশ দিয়ে ছুটে যায় এবং এবং পাড় ভেঙ্গে পড়ে। এবং বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন বছর অনেক মানুষ। পানিতে ডুবে মারা যায় সাঁতার কাটতে গিয়ে। লোকজন এর কথায় সুনা যায়। প্রাচীন কাল থেকে নাকি দীঘি তে, প্রতি বছর এক জন করে ডুবে মারা যায়।

জ্বীনের -দারাগুট্টি

কমলা রাণীর সাগর দিঘির পারে, অবস্থিত দারাগুট্টি। মানুষের মুখে শোনা যায় সেটি নাকি জ্বীনের দ্বারা গঠি ছিল। কমলা রানী সাগর দিঘির পাড়ে, বিশাল একটি মাঠ ছিল। যেটাকে এরালিয়া মাঠ বলে। সেখানে, এবং দিঘির পাড়ে। নাকি, জিনেরা খেলা করত।

এবং অনেকে বলে, এটি নাকি আগেই জ্বীন ছিল।এবং এগুলা নাকি দিঘি থেকে উঠে এসেছিলো। মানুষ তাদের দেখে ফেলে তাই তারা পাথর হয়ে দারাগুট্টি তে পরিণত হয়। দারাগুট্টি গুলো এরালিয়া স্কুলের পাশে অবস্থিত।

Syed Rakib Ahmed

বানিয়াচং-এর-ইতিহাস

বানিয়াচং-গ্রামের-ইতিহাস প্রাচীনকালে লাউড় রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।ঐতিহাসিকদের মতে, এটি ছিল ভাটি অঞ্চলের একটি দুর্গম এলাকা যা মূলত হাওর ও জলবেষ্টিত ছিল। প্রাচীন কালের রাজার নাম ছিলো গবিন্দ সিং। এবং পরে মুসলিম হয়ে নাম দেন হবিব খাঁ। এবং সর্বশেষ রাজার নাম ছিল দেওয়ান আলী রাজা। যিনি পাকিস্তান এর আয়ব খানের বন্ধু ছিলেন। এবং পূর্ব পাকিস্তান আমলের সিলেটের সবচেয়ে ধনী রাজা ছিলেন।

বানিয়াচং-এর-ইতিহাস প্রাচীন বানিয়াচংয়ের অবস্থান ছিল অনেকটা দ্বীপের মতো। বর্ষাকালে এটি চারদিকে পানি দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। এই প্রাকৃতিক গঠনটি বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ থেকে এলাকাটিকে সুরক্ষা প্রদান করত। বানিয়াচংয়ের বিখ্যাত দিঘিগুলো (যেমন: কমলা রানীর দিঘি) এবং বিশাল জলাশয়গুলো প্রমাণ করে যে প্রাচীনকালে এখানে জলকেন্দ্রিক এক উন্নত সভ্যতা ছিল। সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর আয়তন। প্রাচীনকাল থেকেই এটি “বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম” হিসেবে পরিচিত। এর বিশাল ভৌগোলিক পরিধি এবং জনবসতির ঘনত্বের কারণে এটিকে একটি সুরক্ষিত দ্বীপের মতো মনে করা হতো।

বানিয়াচং এর রাজ বংশের নাম।

  • লাউড় রাজবংশ (ব্রাহ্মণ/ক্ষত্রিয় বংশ)
  • ত্রিপুরা ও গৌড় রাজবংশের প্রভাব
  • দেওয়ান রাজবংশ (মুসলিম বংশ)

বানিয়াচং-এর ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হলো দেওয়ান পরিবার। এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কেশর খাঁ। তবে এই বংশের সবচেয়ে প্রভাবশালী শাসক ছিলেন গোবিন্দ সিংহ, যিনি পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাবিব খাঁ নাম ধারণ করেন।
মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বানিয়াচং একটি শক্তিশালী স্বাধীন পরগনা ছিল। এই অঞ্চলের শাসকরা মোঘলদের আনুগত্য সহজে স্বীকার করেননি। বারো ভূঁইয়াদের সহযোগী হিসেবে বানিয়াচং-এর শাসকরা দিল্লির শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে মোঘল সেনাপতিদের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধের পর এটি করদ রাজ্যে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে। তৎকালীন বানিয়াচং এর রাজা, পাকিস্তানের পক্ষে। এবং মুক্তি যোদ্ধা বাহিনীর বিপক্ষে ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়,তিনি রাতের আধারে বানিয়াচং ত্যাগ করেন। সেই থেকে, রাজ বারীর শসনের পতন হয়। শোনা যায়, তখন নাকি মুক্তি বাহিনিদের, গরুর গাড়িতে বেধে, রাজবাড়ী নিয়ে এসে, শাস্তি দেয়া হয়েছিলো।

Syed Rakib Ahmed

সৈয়দ-বাড়ী ও হাসান-মঞ্জিল

বানিয়াচং এ ২ টি সৈয়দ বাড়ী আছে। মীর মহল্লা, সাহেব বারী, ও পূর্বপাড়া সাহেব বাড়ি।

মীর মহল সৈয়দ বাড়ির। পূর্বপুরুষ হলেন: মুন্সেফ মৌলানা সৈয়দ গোলাম ইমাম। তিনি ব্রিটিশ আমলে সিলেটের। জজ ছিলেন।
এবং হাসান মঞ্জিলের পূর্বপুরুষ। জাহাঙ্গীর আকবরের আমলের প্রধান বিচারপত ।বানিয়াচং এর সমস্ত জমিদার বাড়ি। এই দুই পরিবারের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।

হাসান পরিবারের থেকে, স্যার ফজলে হাসান আবেদ। সাবেক, সংসদ সদস্য, জাহেদ হাসান। এবং বর্তমান সংসদ সদস্য, ডাক্তার সাখাওয়াত হোসেন জীবন। এবং এই পরিবারে আরো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষি ব্যক্তি। শিল্পপতি ও আসেন। যারা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন যাগায় সুনাম অরজন করেছেন।

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও ঋতুভেদে রূপ

বর্ষাকাল: বর্ষায় পুরো এলাকা এক বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়। তখন মনে হয় গ্রামগুলো ছোট ছোট দ্বীপের মতো পানির ওপর ভাসছে। দিগন্তজোড়া জলরাশি আর উত্তাল ঢেউয়ের এই দৃশ্যকে অনেকেই সমুদ্রের সাথে তুলনা করেন।
শীতকাল: পানি শুকিয়ে গেলে এখানে মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের মাঠ জেগে ওঠে। এসময় সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে আসা অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে হাওর।
​মৎস্য ভাণ্ডার: বানিয়াচংয়ের হাওরগুলো দেশি মাছের বিশাল আধার। এখানকার মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়।
​কৃষি: শুষ্ক মৌসুমে এখানে প্রচুর পরিমাণে বোরো ধান চাষ হয়। এই অঞ্চলের উর্বর পলি মাটি বাম্পার ফলনে সহায়ক।

এই হাওর অঞ্চল,স্থানীয় মানুষের, জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। বর্ষাকালে যা সমুদ্রের মতো পরিণত হয়। এবং শুষ্ক মৌসুমে, ফসলের সবুজ মাঠে। ও পাকা ধানে, পরিণত হয়। বানিয়াচং এ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, বসবাস করে। এখানে আনেক গুলো মসজিদ এবং মন্দির রয়েছে। এবং বাংলাদেশের গায়ক। সুবিনন্দিন এর পূর্বপুরুষের বারি ও বানিয়াচং। নন্দি দমিদার পরিবারের। পরিত্যক্ত বাড়ি টি নিয়ে ও অনেক ভৌতিক কাহিনী রয়েছে। ভবন টি একসময় স্থানীয় কারাগার ছিলো। এবং এর নিচ তলায় নাকি সুরংগ।বা লুকানো কোনো ঘর ছিলো। এটি নিয়ে ও মানুষের মনে অনেক কৌতুল ধারণা রয়েছে।

বানিয়াচংয়ের হাওর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষার শেষ দিকে (আগস্ট-সেপ্টেম্বর) অথবা শীতের শুরুতে (নভেম্বর-ডিসেম্বর)।

গণতন্ত্র শাসন

বানিয়াচং-এর-ইতিহাস ব্রিটিশ, শাসনের পরে। গণতন্ত্র হলেও, এটি পাকিস্তানের আইয়ুব খানের নির্দেশনয়। তৎকালীন রাজ পরিবার শাসন করে। এবং ১৯৭১ সাল থেকে এটি গণতন্ত্রের অধীনে চলে যায়। এবং বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতন গ্রামটি উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন এ ভাগ হয়। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের, বানিয়াচঙ্গ থানাকে দেশের অন্যান্য থানার মতো প্রথমে মান-উন্নীত থানা এবং পরে উপজেলায় পরিণত করা হয়। তদানীন্তন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও নৌবাহিনীর তদানীন্তন প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম. এ. খান হেলিকপ্টার যোগে বানিয়াচঙ্গ এসে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বানিয়াচঙ্গ থানার মান-উন্নয়নের সরকারি ঘোষণা প্রকাশ করেন এবং সরকারী আদেশটি বানিয়াচঙ্গের প্রথম টি.এন.ও. বাবু বিকাশ চৌধুরীর নিকট হস্তান্তর করেন। Syed Rakib Ahmed

The History

Click Now

বানিয়াচং-এর-ইতিহাস

Syed Rakib Ahmed

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *