বাংলাদেশের এরকম, অসংখ্যা শিশু আছে যারা, প্রতিদিন খাবারের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।
তাদের মধ্যে, রাতুল একজন। বাল্যকালে নিজের, ভবিষ্যৎ ও পরিবারের ভার, কাধে নেয়ার ঘটনা অনেক রয়েছে। (গল্পটি আমার দেশ পেইজ থেকে নেয়া।)
The Little Life
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে, শিশু রাতুলের কাঁধে সংসারের বোঝা। এখনও ঠিকভাবে কথাও, বলতে পারে না। দুনিয়া কী—সেটাও, ভালোভাবে বুঝে উঠতে পারেনি। অথচ ভাগ্যের, নির্মম পরিহাসে। তাকে দাঁড়াতে হয়েছে জীবনের কঠিন, এক বাস্তবতার সামনে। মাথায় ছোট্ট টুপি, পরনে সাদামাটা পাঞ্জাবি। আধো আধো কণ্ঠে, ক্রেতাদের ডাক দিচ্ছে সে। ক্রেতাদের ডাকছে): “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ… একটা নামাজের টুপি নিয়ে যান, মাত্র ৩০ টাকা।”
কখনও বসে, কখনও দাঁড়িয়ে, তার কোমল দুই হাত, ব্যস্ত থাকে মাস্ক ও টুপি বিক্রিতে। আর দিনশেষে যা আয় হয়, তা নিঃস্বার্থভাবে, তুলে দেয় বাবা-মায়ের হাতে।
জীবনের সংগ্রাম
যে বয়সে একটি শিশুর থাকার কথা বাবা-মায়ের কোলে, আদর-ভালোবাসায়, খেলাধুলা আর রঙিন স্বপ্নে; ঠিক সেই বয়সেই নিজে ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে ছোট্ট এই শিশুটি। এই দৃশ্য সত্যি হৃদয়বিদারক, যা যে কারো চোখে পানি এনে দেওয়ার মতো। মায়াবী এই ছোট্ট শিশুটির নাম মোহাম্মদ রাতুল হোসেন। তাকে এক নজর দেখলেই মনে হবে কঠিন হৃদয়ের মানুষও হয়তো মুহূর্তেই গলে যাবে; কিন্তু বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে দায়িত্ব তার শৈশবটাকেই কেড়ে নিয়েছে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সে বুঝে গেছে জীবনের কঠিন হিসাব-নিকাশ।
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বসেই কাটে তার দিনের বেশিরভাগ সময়।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা মাস্ক ও টুপি বিক্রি করে যা আয় হয়—কখনও ৩০০, কখনও ৪০০, আর ভাগ্য ভালো হলে ৫০০ টাক প্রতিদিন তার আয় কখনো ৩০০, কখনো ৪০০, আর ভাগ্য ভালো হলে ৫০০ টাকা।
আবার এমন অনেক দিনও যায়, যেদিন একটি টাকাও বিক্রি হয় না। তবুও থেমে থাকে না তার চেষ্টা, থামে না তার সংগ্রাম।
৫০০-৬০০। কোনো দিন কমও হয়। কোনো দিন হয়ও না।
প্রশ্ন জাগে, বাবা-মা থাকা সত্ত্বেও কেন এই ছোট্ট শিশুটিকে এমন কঠিন জীবনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে? এই উত্তর লুকিয়ে আছে তার পরিবারের অসহায় বাস্তবতায়। তার বাবা একসময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু পেটে অস্ত্রোপচারের পর এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। অধিকাংশ সময় অসুস্থ শরীর নিয়ে ঘরে শুয়েই থাকতে হয় তাকে।
দিনভর পরিশ্রমের মাঝেও রাতুলের চোখে ক্লান্তির ছাপ খুব একটা দেখা যায় না। নেই কোনো অভিযোগ, নেই কোনো অভিমান। আছে শুধু বেঁচে থাকার এক অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
ব্যস্ত পথচারীদের ভিড়ে কেউ কেউ তাকিয়েও দেখেন না, কেউ দ্রুত হেঁটে চলে যান। আবার কেউ কেউ থেমে যান, অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন এই ছোট্ট জীবনের সংগ্রামের দিকে। সেই ভিড়ের মধ্যেই কিছু হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে আসে তার কাছ থেকে মাস্ক ও টুপি কিনে নেয়। আর সেসব মানুষের সামান্য সহানুভূতিতে কোনোভাবে টিকে আছে রাতুলের পরিবার। অন্য শিশুদের মতো বই-খাতা, খেলনা বা রঙিন পোশাকের স্বপ্ন তার জীবনে খুব একটা জায়গা পায়নি। তবুও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই ছোট্ট বয়সেও সে কেনাবেচায় বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছে। সে টাকা চিনতে পারে, হিসাব মেলাতে পারে নির্ভুলভাবে।
